Skip to main content

Posts

পানির অভাবে কী করবেন

Recent posts

রাজ্যবিহীন রাজার পাহাড়

নাম শুনলেই নিশ্চয়ই কল্পনায় ভেসে ওঠে কোনো রাজা সিংহাসন পেতে বসে আছে পাহাড় চূড়ায়! যদিও এখন সেখানে গেলে রাজার দেখা মিলবে না; তবে প্রাচীনকালে এই পাহাড়ের গায়ে এক স্বাধীন রাজ্য ছিল। যার রাজা ছিলেন অত্যন্ত প্রতাপশালী। পরে তার নামানুসারেই এ পাহাড়ের নাম হয় রাজার পাহাড়। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী প্রান্তিক শেরপুর জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট বড় টিলা, শাল গজারীর বন, পাহাড়ের নিচে বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর। সেখানেই আছে সুবিশাল ও রোমাঞ্চকর রাজা পাহাড়। পর্যটকদের কাছে শেরপুরে অন্যতম আকর্ষণ হলো রাজার পাহাড়। শেরপুর জেলার শ্রীবরদী পৌর শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে কর্নঝোরা বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাজার পাহাড়ের অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে এটি জনপ্রিয় বিনোদন স্পট। বছরে প্রায় সব সময়ই শত শত মানুষ রাজার পাহাড়ের নির্মল পরিবেশে বেড়াতে যান। গারো পাহাড়ে যতগুলো পাহাড় আছে তার মধ্যে রাজার পাহাড়ের উচ্চতা সবচেয়ে বেশি। এ পাহাড়ের বৈশিষ্ট সিলেট বা বান্দরবানের পাহাড়ের মতো না হলেও, সবুজের ঐশ্বর্যে সে কারও চেয়ে কোন অংশে কম নয়। রাজার পাহাড়ের উৎপত্তি নিয়ে কিংবদন্তি অনেক ঘটনা আছে। স্থানীয়দের মতে, অতীতে পাগলা...

রক্তদহ বিলের সৌন্দর্য

 রক্তদহ বিলের নাম অনেকেই হয়তো জেনে থাকবেন। নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে রক্তদহ বিলটি সবারই নজর কাড়ে। এই বিলের নাম শুনলেই হয়তো গায়ে কাঁটা দেয়! আবার অনেকেই ভাবতে পারেন, আসলেই কি বিলের পানির রং লাল না-কি! তাহলে এর নাম কেন রক্তদহ বিল? আসলে এই বিলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পলাশী পরবর্তী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক রক্তাক্ত ইতিহাস। ১৭৮৬ সালে ফকির মজনু শাহের সঙ্গে এখানে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে সৈনিকদের রক্তে লাল হয়ে উঠেছিল বিলের পানি। এরপর থেকেই বিলটির নামকরণ করা হয় রক্তদহ। বগুড়া শহর থেকে এই বিলের অবস্থান ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে। রাণীনগরের পারইল এবং আত্রাই উপেজলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই বিলের অবস্থান। রক্তদহ বিল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি অন্যতম বৃহৎ বিল। জানা যায়, ১৩টি খাল ও অন্যান্য জলপথ রক্তদহ বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মূল বিলটি ১০৫ হেক্টর হলেও প্রায় ৫০ কিলোমিটার এর ব্যাপ্তি। রক্তদহ বিলের আশেপাশে আছে প্রচুর গাছপালা ও সবুজ অরণ্য। এমনকি পথের দু’ধারে দেখতে পাবেন সারি সারি খেজুর, তালসহ অজস্র গাছগাছালি। বর্ষা মৌসুমে রক্তদহ বিলের স...

অনিন্দ্য সুন্দর রাতারগুল

  দু'পাশে করচা গাছের সারি, মাথার ওপরে শতবর্ষী অর্জুনের ডাল-পালা, চোখ যতদূর যায় গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে বন। চারদিক শান্ত, সম্পূর্ণ কোলাহলমুক্ত। মাঝে মধ্যে দূর থেকে শোনা যাচ্ছে কিছু অজানা পাখির ডাক। থমথমে এক পরিবেশে নৌকার বৈঠায় ওঠা পানির কলকল ধ্বনিও যেন সুমধুর মনে হয়। টলটলে জলে অর্ধেক ডুবে থাকা গাছের পর গাছ নিয়ে বিশাল বন। ডালে ডালে নানা জাতের পাখির কলতান; জলে মাছের সঙ্গে সাপ-ব্যাঙের বসবাস। সব মিলিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর জলাবন রাতারগুল 'সিলেটের সুন্দরবন' নামে পরিচিতি পেয়েছে আগেই। সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও বর্ষায় পানি বাড়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে বেশি। ধীরে ধীরে বনের যত গহিনে যেতে লাগল নৌকা, যত গহিনে যাওয়া যায়, ততই জলে ডুবে থাকা মহীরুহের আচ্ছাদনে হারিয়ে যাওয়া। এ যেন অদ্ভুত এক জলের রাজ্য। ঘন হয়ে আসা বৃক্ষের কারণে কেমন অন্ধকারাচ্ছন্ন সবুজাভ আভা দেখা যায় পুরো জলাবনে। কোনো বৃক্ষ হাঁটু পানিতে ভেসে আছে আবার কোনো বৃক্ষ অর্ধেক জলে ডুবে গেছে। যতই এই জলেশ্বরীর গহিনে যাওয়া যাবে ততই গাছের ঘনত্ব বাড়তে থাকবে। সূর্যের আলোও অনেক জায়গায় এই বৃক্ষ ভেদ করে আসতে পারে না। বর্ষার স...

জৈন্তাপুরে ঝর্ণার সন্ধান

প্রকৃতি কন্যা সিলেট। পাহাড়, নদী, টিলা, গ্যাস আর সবুজ চা-বাগান যেন প্রকৃতির মহিমায় সাজিয়ে রেখেছে জেলাটিকে। সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে জাফলং, জৈন্তাপুর ডিভির হাওড়ের শাপলা বিল, লালাখাল, মাধবকুণ্ড, রাতারগুল, শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া এবং বিছনাকান্দি অন্যতম। এসব কিছুর ঊর্ধ্বে পর্যটন নগরী সিলেটের জৈন্তাপুরে সন্ধান মিলেছে মায়াবি ঝর্নার পর আরেকটি নয়নাভিরাম ঝর্নার; স্থানীয়রা যার নাম দিয়েছে ‘আদুরি’। পান-পানি-নারী খ্যাত জৈন্তাপুর উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। গ্যাস, কয়লা, পাথর, বালি, ইউরেনিয়াম এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে উপজেলাজুড়ে। ঝর্নাটি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুরের খরমপুর নামক স্থানে অবস্থিত। সিলেট জাফলং রোড থেকে শ্রীপুর হয়ে হেঁটে মাত্র ৫ মিনিট অতিক্রম করলেই দেখা মিলবে আদুরির। অত্যন্ত প্রাকৃতিক নিরিবিলি পরিবেশে জনমানবশূন্য এলাকায় ১০-১৫ ফুট উপর থেকে অবিরাম নেমে আসছে স্বচ্ছ পানির নহর।   Source: বঙ্গবাজ

দুর্গ নগরীতে একদিন

  উয়ারী ও বটেশ্বর দুটি আলাদা গ্রাম। শহরের নাগরিক ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে ইতিহাসে একটু ডুব দিতে ঘুরে আসতে পারেন গ্রাম দুটি থেকে। ইতিহাসের পাতায় যে ভিন্ন এক গুরুত্ব দিয়ে গ্রাম দুটির নাম লেখা রয়েছে। নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় উয়ারী এবং বটেশ্বর পাশাপাশি দুটো গ্রাম। উয়ারী বটেশ্বর যেতে পথের দু'ধারে অসাধারণ সব প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে দেখতে আপনার ভ্রমণের সময় দ্রুত চলে যাবে। ঘিরে রাখা প্রত্নতত্ত্ব স্থানে যাওয়ার আগেই চোখে পড়বে নানা খনন কার্যক্রম। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, এটি এক সময় মাটির নিচের দুর্গ-নগরী ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুসারে এগুলো প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের পুরোনো নিদর্শন। এই গ্রাম দুটোতে প্রায়ই বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান পাওয়া যেত। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে উয়ারী গ্রামে শ্রমিকরা মাটি খননকালে একটি পাত্রে সঞ্চিত মুদ্রা ভান্ডার পায়। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ হানিফ পাঠান সেখান থেকে ২০-৩০টি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। এগুলো ছিল বঙ্গভারতের প্রাচীনতম রৌপ্য মুদ্রা। এই ছিল উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহের প্রথম চেষ্টা। অনাবিস্কৃত এই উয়ারী-বটেশ্বরে প্রত্নতাত...

নীল জলে ছুটে চলা

স্বর্গীয় সৌন্দর্য আর মনোরোম দৃশ্যে ভরপুর এক স্থান হলো নিলাদ্রি লেক। সেখানকার ছবিগুলো দেখলেই আপনি ঠাহর করতে পারবেন কল্পনার চেয়েও কতটা সুন্দর এই স্থানটি। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহ। মাঝখানে নীল রঙের জল। একপাশে মেঘালয়ের পাহাড়, তার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পাথর। প্রকৃতির এক অপূর্ব নিদর্শন। দেশের মধ্যেই যেন টুকরো কাশ্মীর। পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক স্থান এটি। এই লেকের নাম শহীদ সিরাজ হ্রদ বা শহীদ সিরাজ লেক এমনকি নিলাদ্রি লেকও বলা হয়ে থাকে। ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের সিরাগঞ্জের উপজেলার তাহিরপুরে অবস্থিত এই স্থানটি। জানা যায়, সীমান্তবর্তী ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পের পরিত্যক্ত এই খোয়ারিটি ১৯৪০ সালে চুনাপাথর সংগ্রহ শুরু করে। এখানে চুনাপাথর সংগ্রহ করে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় নির্মিত আসাম বাংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটানো হতো। ১৯৭১ সালে স্নাতকে পড়াকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঘর ছাড়েন সিরাজ। আসামের ইকো ওয়ান সেন্টারে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ৫ নম্বর সেক্টরের বড়ছড়া সাব-সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধে ...